এলসিআর অর্থ লোয়ার কোর্ট রেকর্ড
সংশ্লিষ্ট মামলার নথি আদালত অঙ্গনে এলসিআর হিসেবে পরিচিত
দায়রা জজ এই আবেদন তৃতীয়বারের মতো শোনেন গত ১১ আগস্ট
এদিনও তিনি জামিনের আবেদন নিষ্পত্তি করেননি
তবে তিনি তাঁর আদেশে লিখেছেন আসামিরা আইনজীবীর জিম্মায় আছে এবং ডকে হাজির
এলসিআর সামিল হয় নাই
আগামী ২৫ আগস্ট জামিন শুনানি
সবশেষ গত ২৫ আগস্ট দায়রা জজ লিখেছেন ১-৫ নং আসামিগণ আইনজীবীর জিম্মায় আছে
বিজ্ঞ আইনজীবী সময়ের প্রার্থনা করেছে
সময় মঞ্জুর হলো
জামিন ১৫ দিন বর্ধিত হলো
আগামী ০৯/০৯/১০ ইং জামিন শুনানী
আমরা দালিলিকভাবে দেখতে পাচ্ছি চারটি আদেশে দৃশ্যত একটি বিচিত্র অবস্থা ফুটে উঠেছে
এই চারটি আদেশের সত্যায়িত অনুলিপি আমাদের হাতে আছে
আমরা কী দেখলাম
আমরা দেখলাম একই আদেশে লেখা হলো জামিনের মেয়াদ বাড়ানো হলো
একই আদেশে লেখা হলো জামিনের শুনানি আগামী ৯ অক্টোবরে হবে
খুনের আসামিকে জামিন না দিয়ে জিম্মায় দেওয়ার আইন বা রেওয়াজ কোনোটিই নেই
গল্প এখানেই শেষ নয়
আরও আছে
যশোর আদালতের নথি থেকে প্রতীয়মান হয় যে গত ১০ আগস্ট ২০১০ ওই এলসিআর দায়রা জজ আদালতের ক্লার্ক মো আমিনুর রহমান প্রাপ্তি স্বীকার করেন
পরদিন আদালতে এই মামলার জামিন শুনানির জন্য ধার্য ছিল
এবং আদালতের ২৫ আগস্টের আদেশে লেখা আছে নথি পেশ করা হয়নি
আমিনুরের সঙ্গে কথা হলো ফোনে
তাঁর ব্যাখ্যা মোটেই সন্তোষজনক নয়
পরে শুনলাম গত ৩ জুন যখন দায়রা আদালত প্রথম আদেশ দেন যে নথি হাজির করা হোক
তখনো নথি আদালতে ছিল
এর প্রমাণ আছে
বিষয়টি তদন্তের দাবি রাখে
গত ৬ জুন লিখিত রায় পাওয়া গেছে আগস্টের শেষে আপিল বিভাগের রায়ে বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক লিখেছেন হাইকোর্ট পলাতকের জন্য আগাম জামিন বিবেচনা করতে গিয়ে হয় নির্দিষ্ট করা নীতির ভিত্তিতে জামিন দেবেন কিংবা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করবেন
কিন্তু এর কোনোটিই করা হবে না
অথচ পুলিশ যাদের কর্তব্যই হলো আসামী গ্রেপ্তার করা তাঁদের নির্দেশ উল্লিখিত দুটি ক্ষেত্রেই যা ছিল দেয়া হবে গ্রেপ্তার করা যাবে না সেটা কিন্তু আমাদের জানা কোনো আইনে নেই
আমরা মনে করি এই রায়ের আলোকে নির্দিষ্ট আইন করতে হবে
আগাম জামিনসংক্রান্ত এই রায় নিয়ে আমার একটু ভিন্নমত রয়েছে
সেটা পরে লিখব
তবে এই মুহূর্তে এই ডাইরেকশন বন্ধে আইন সংশোধনের জোর সুপারিশ করি
আপিল বিভাগের রায় যথেষ্ট নয়
মিজানুর রহমান খান সাংবাদিক
@
মিয়ানমার
সেনাশাসনের নতুন সংস্করণের দিকে যাত্রা
আগামী ৭ নভেম্বর মিয়ানমারে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের ঘোষণা দিয়েছে দেশটির সামরিক জান্তা
দুই দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো নির্বাচন হতে যাচ্ছে
এই নির্বাচনকে বেসামরিক শাসনের মুখোশের আড়ালে সামরিক শাসনের বৈধতা দেওয়ার পথ হিসেবেই দেখা হচ্ছে
বাংলাদেশের প্রতিবেশী রাষ্ট্র মিয়ানমারে ১৯৬২ সাল থেকে কোনো না কোনোভাবে সেনাশাসন চলছে
জেনারেল নে উইনের নেতৃত্বে সামরিক অভ্যুত্থানে তখন বেসামরিক সরকার ক্ষমতাচ্যুত হয়
বর্তমান জান্তা ক্ষমতাসীন হয় ১৯৮৮ সালে
এ জান্তার অধীনে ১৯৯০ সালে অনুষ্ঠিত গণতান্ত্রিক নির্বাচনে অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি এনএলডি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়
কিন্তু জান্তা সেই নির্বাচনের ফলাফল বাতিল করে দেয়
দীর্ঘদিনের অচলাবস্থার পর মিয়ানমারে রাজনৈতিক পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে
তা যে পুরোপুরি জান্তানিয়ন্ত্রিত পথেই হবে তাতে সন্দেহ নেই
জান্তা প্রতিশ্রুতি দিয়েছে নির্বাচনের পর বেসামরিক নেতৃত্বের সঙ্গে ক্ষমতা ভাগাভাগি করা হবে
কিন্তু নির্বাচনের পর কর্তৃত্ববাদী শাসন থেকে মিয়ানমার সরে আসবে তেমন সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না
এ বছর প্রণীত নতুন সংবিধান অনুযায়ী গঠিত হয়েছে শক্তিশালী জাতীয় প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা পরিষদ যা নিয়ন্ত্রণ করবেন সেনাবাহিনীর সর্বাধিনায়ক
বেসামরিক সরকারকে উৎখাত করার ক্ষমতা এ পরিষদের আছে
আসলে নতুন সংবিধানের মাধ্যমে পর্দার আড়াল থেকে সেনাবাহিনী সরকারে তার ভূমিকা চিরস্থায়ী করার বন্দোবস্ত করে নিয়েছে
২৫ শতাংশ আসন সেনাবাহিনীর জন্য নির্ধারিত
নির্বাচন কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণের জন্য জান্তা ইতিমধ্যে বিরোধী দলগুলোর ওপর নানা বিধিনিষেধ আরোপ করেছে
১০ মার্চ জান্তা নতুন আইন পাস করেছে যাতে সু চি নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ না পান
নির্বাচনী আইন পক্ষপাতিত্বমূলক ও নিয়ন্ত্রণপ্রবণ দাবি করে তাঁর দল নির্বাচন বয়কটের ঘোষণা দেয়
এ কারণে গত মে মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে দলটি বিলুপ্ত করে দেয় সরকার
সেনা কর্মকর্তারা চান তাঁদের হাতে গড়া পছন্দসই দল ক্ষমতায় আসুক যাতে তাঁরা আড়ালে থেকে তাঁদের প্রভাব অব্যাহত রাখতে পারেন
জান্তা সরকারের কয়েকজন সদস্য ইতিমধ্যে সশস্ত্র বাহিনীর পদ ত্যাগ করেছেন
নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবেই তাঁরা নিজেদের বেসামরিক ব্যক্তিতে রূপান্তরিত করে জান্তা-সমর্থিত ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টিতে ইউএসডিপি সক্রিয় হচ্ছেন
তা ছাড়া নির্বাচন সামনে রেখে দেশের সশস্ত্র জাতিগত সংখ্যালঘু গোষ্ঠীগুলোর ওপর চাপ প্রয়োগের কৌশল হিসেবে মিয়ানমার সরকার চীন ও থাইল্যান্ড সীমান্তে গত মার্চে হাজার হাজার সেনা মোতায়েন করেছে
মিয়ানমারের জনসংখ্যার প্রধান অংশ বামার প্রায় ৬৮ শতাংশ ছাড়াও প্রায় ১৩০টি জাতিগত সংখ্যালঘু গোষ্ঠী সেখানে বাস করে
ব্রিটেনের ঔপনিবেশিক শাসন থেকে স্বাধীনতা লাভের ছয় দশক পরও পুরো ভূখণ্ডের ওপর রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়নি
দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকেই বেশ কয়েকটি জাতিগত সংখ্যালঘু গোষ্ঠী লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে
১৯৮৯ সাল থেকে জেনারেল খিন নিয়ুন্ট সশস্ত্র সংগ্রামরত বেশির ভাগ জাতিগোষ্ঠীকে যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষর করাতে সক্ষম হন
তবু বেশ কিছু গোষ্ঠী এখনো প্রতিরোধ জারি রেখেছে
জাতিগত সংখ্যালঘু অঞ্চলগুলো মানবিক সংকটের দ্বারপ্রান্তে
মাদক পাচার এইচআইভির বিস্তার অস্ত্র পাচার এবং উদ্বাস্তু সমস্যা চীন ভারত থাইল্যান্ডসহ পুরো অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করে তোলার আশঙ্কা তৈরি করেছে
এ অবস্থায় মিয়ানমারে দ্রুত সত্যিকারের পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা ক্ষীণ
এমন পরিবর্তন সহজও নয়
দেশের ভেতরে বিরোধী শক্তিগুলোর নেতা-কর্মীদের ওপর দমননীতি চালানোর ফলে সংগঠিত বিরোধী শক্তি নেই বললেই চলে
আর অর্থনীতির নাজুক অবস্থার কারণে জনগণের প্রতিদিনের সংগ্রাম যেখানে বেঁচে থাকার পথ খোঁজা সেখানে বড় ধরনের রাজনৈতিক উত্থানের চিন্তা এই মুহূর্তে কঠিন
আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে বছরের পর বছর ধরে অস্ত্র ও বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা জারি রেখে জান্তার ওপর কোনো প্রভাব ফেলা যায়নি
পূর্ব-এশীয় দেশগুলো চেষ্টা করেছে রাজনৈতিকভাবে মিয়ানমারের সঙ্গে যুক্ত হতে
নিষেধাজ্ঞা যেমন কাজে আসেনি সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টাও ফলদায়ক হয়নি
আসিয়ানের গঠনমূলক সম্পর্ক রক্ষার নীতির পেছনে যুক্তি দেখানো হয় অর্থনৈতিক উন্নতি আরও গণতন্ত্র নিয়ে আসবে—এর সামান্যতম ইতিবাচক ফল এখনো দেখা যায়নি
একই যুক্তিতে ১৯৯৭ সালের মে মাসে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট জ্যাক শিরাক আসিয়ানে মিয়ানমারের যোগ দেওয়ার পক্ষে সাফাই গেয়েছিলেন
উল্লেখ্য ফরাসি বহুজাতিক কোম্পানি টোটাল এখন মিয়ানমারে সামরিক জান্তার অন্যতম পৃষ্ঠপোষক
এখানেও মানবাধিকার পরিস্থিতির বিবেচনার ওপরে স্থান পেয়েছে অর্থনৈতিক স্বার্থ
মিয়ানমারে শাসনপদ্ধতি সংস্কারের জন্য সবচেয়ে কার্যকর চাপ প্রয়োগ করার সামর্থ্য রয়েছে চীন ও ভারতের
মিয়ানমারের রাজনীতিতে অর্থনৈতিক রাজনৈতিক ও সামরিক দিক থেকে সবচেয়ে বড় বৈদেশিক প্রভাবসম্পন্ন দেশ হলো চীন
সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে ১৯৮৮ সালের বিক্ষোভে প্রায় তিন হাজার মানুষ মারা যাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে মিয়ানমারের দূরত্ব বেড়ে যায়
এর পর মিয়ানমারের ওপর চীনের প্রভাব ক্রমাগত বেড়েছে
মিয়ানমার তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসসমৃদ্ধ
চীনের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা মেটাতে এগুলোর প্রয়োজন
এ জন্য সামরিক সরকারের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক রাখা প্রয়োজন
অন্যদিকে চীনের নিজের স্বার্থেও মিয়ানমারে এক ধরনের স্থিতিশীলতা দরকার মিয়ানমার রাষ্ট্র পুরোপুরি ভেঙে পড়লে তাতে চীনেরও বড় ক্ষতির আশঙ্কা থাকে
মিয়ানমারে চীনের বিনিয়োগ সবচেয়ে বেশি বিপুলসংখ্যক চীনা নাগরিক দেশটিতে আসছে বসতি স্থাপন করছে
মিয়ানমারে সবচেয়ে বড় রপ্তানিকারক দেশও চীন
বিনিয়োগ ও নিজেদের নাগরিকদের নিরাপত্তার প্রশ্নে তাই খুব বেশি অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও রাজনৈতিক দমন-পীড়ন দেখতে চায় না চীন
তাই আসলে এক ধরনের ভারসাম্যতা বজায় রেখে চলছে—গণতন্ত্রের পক্ষে চীনের দিক থেকে কোনো চাপ নেই তবে তারা খুব বেশি দমন-পীড়নেরও বিরোধী
মিয়ানমারের প্রশ্নে ভারতের নীতিতে সাম্প্রতিককালে বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটেছে
১৯৮৮ সালে যখন মিয়ানমার বিক্ষোভে ফেটে পড়ে তখন ভারতীয় সরকারের অনেকে গণতন্ত্রকামী আন্দোলনের প্রতি প্রকাশ্য সমর্থন জানিয়েছিলেন
১৯৮০-এর দশক ও ১৯৯০-এর দশকের প্রথম ভাগে মিয়ানমার বিষয়ে ভারত জাতিসংঘে বেশ কিছু প্রস্তাব উত্থাপন করেছিল
মিয়ানমারের নির্বাসিত রাজনৈতিক কর্মীদের আশ্রয়ও দিয়েছিল
কিন্তু গত এক দশকে ভারতের অবস্থান পুরো বিপরীতমুখী হয়ে পড়েছে
